চুয়াডাঙ্গা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আহ্বান ভারতের সংসদীয় কমিটির

Padma Sangbad
২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
১৯৯৬ সালে ভারত-বাংলাদেশ স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির (গঙ্গা ওয়াটার ট্রিটি) মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আলোচনা ভেসে বেড়াচ্ছে। এবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আর দেরি না করে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

আজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে চলায়, ‘দেরি না করে’ ঢাকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরে নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি এসব কথা তুলে ধরে।

চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হতে চলেছে এবং এর নবায়ন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এখনো শুরু হয়নি উল্লেখ করে কমিটি সুপারিশ করেছে, সাম্প্রতিক হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত এটি নবায়নের আলোচনা শুরু করা উচিত।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টিকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে না বলে আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূল বিষয়, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির প্রবাহ দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি করা। চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গার পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত নির্দিষ্ট হারে পানি পাবে। পানির প্রবাহ কমে গেলে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে—এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করার বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে, আর ভারতও নতুন বাস্তবতা—যেমন পানির প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় চাহিদা—বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার কথা বলে আসছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পরপরই বিএনপি সরকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কথা বলেন।

আপডেট : ১১:৪৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আহ্বান ভারতের সংসদীয় কমিটির

আপডেট : ১১:৪৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
১৯৯৬ সালে ভারত-বাংলাদেশ স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির (গঙ্গা ওয়াটার ট্রিটি) মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আলোচনা ভেসে বেড়াচ্ছে। এবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আর দেরি না করে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি।

আজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানিচুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হতে চলায়, ‘দেরি না করে’ ঢাকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেসের এমপি শশী থারুরে নেতৃত্বাধীন এই প্যানেল। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি এসব কথা তুলে ধরে।

চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হতে চলেছে এবং এর নবায়ন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এখনো শুরু হয়নি উল্লেখ করে কমিটি সুপারিশ করেছে, সাম্প্রতিক হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত এটি নবায়নের আলোচনা শুরু করা উচিত।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এ ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টিকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে না বলে আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূল বিষয়, শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানির প্রবাহ দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি করা। চুক্তি অনুযায়ী, গঙ্গার পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত নির্দিষ্ট হারে পানি পাবে। পানির প্রবাহ কমে গেলে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে—এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করার বিষয়টি এখন আলোচনায় রয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে, আর ভারতও নতুন বাস্তবতা—যেমন পানির প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থানীয় চাহিদা—বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার কথা বলে আসছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিত জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পরপরই বিএনপি সরকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কথা বলেন।