ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ফের রেকর্ড ভাটা

জনরায় নিয়েই ক্ষমতায় ফিরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম পক্ষে তথা প্রথম তিন মাসে তার জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ভাটা পড়েছে। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একই সময়ে যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের গড় জনপ্রিয়তার চেয়েও এখন অনেক কম জনপ্রিয় রিপাবলিকান এই নেতা। অবশ্য প্রথম মেয়াদের প্রথম পক্ষে তার জনপ্রিয়তা আরও কম ছিল। ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, প্রথম পক্ষে যার জনপ্রিয়তা শতকরা ৫০ ভাগের নিচে। গ্যালাপ জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
এদিকে ট্রাম্পের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার জনতা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবার শনিবার বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকালে তারা ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাকে জার্মানির সাবেক স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিটআর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষুব্ধরা মিছিলে চড়া সুর তুলেছে, ট্রাম্পকে এখনই বিদায় নিতে হবে।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। এর আগে ২০১৬ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে প্রথম ক্ষমতায় এসেছিলেন এই ধনকুবের।
১৯৫২ থেকে গ্যালাপ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত সব প্রেসিডেন্টের মেয়াদের প্রথম বছরের প্রথম পক্ষের জনপ্রিয়তা নিয়ে জরিপ পরিচালনা করে আসছে। ২০ জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে এই জরিপ পরিচালিত হয়ে থাকে। ২০২০ সাল পর্যন্ত গড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জনপ্রিয়তার হার ছিল ৬০ শতাংশ। কিন্তু এবার ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪৫ শতাংশ। অথচ জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ছিল ৪৭ শতাংশ।
গ্যালাপের জরিপ অনুসারে, ক্ষমতার প্রথম পক্ষে জন এফ কেনেডি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় (৭৪%) প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ার (৭১%)। জনপ্রিয়তায় ৬০ শতাংশ থেকে ৬৯ শতাংশের মধ্যে থাকা প্রেসিডেন্টদের মধ্যে রয়েছেন জিমি কার্টার, বারাক ওবামা ও রোনাল্ড রিগ্যান। জর্জ এইচডব্লিউ বুশ ও তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং জো বাইডেন ও বিল ক্লিনটনের জনপ্রিয়তার হার ছিল ৫৫ শতাংশ থেকে ৫৮ শতাংশ। ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, প্রথম পক্ষে যার জনপ্রিয়তা শতকরা ৫০ ভাগের নিচে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তার কট্টরবাদী নীতি। বিশেষ করে তার অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যযুদ্ধ বাঁধিয়ে ফেলা। নিজ দেশকে ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’র স্বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি খুবই কঠোর বাণিজ্যনীতি অনুসরণ করছেন।
এ সব নীতির বিরুদ্ধে মার্কিন জনতা ফুঁসে উঠেছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তারা বিক্ষোভ করছেন। শনিবারও ওয়াশিংটন ডিসিসহ সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হতে দেখা গেছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০টি রাজ্যের জনতাই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। এই বিক্ষোভকে তারা ‘স্বাধীনতার জন্য নতুন লড়াই’। এ মাসের শুরুর দিকে ‘হ্যান্ডস অফ’ নামে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শনিবারের বিক্ষোভ ওই বিক্ষোভেরই ধারাবাহিকতা।
কিন্তু ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা মনে করেন, তার ‘আগে আমেরিকা’নীতি যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির জনতার জন্য খুবই দরকারি। এমনকি ট্রাম্প সম্প্রতি তৃতীয় মেয়াদে দেশ শাসনের ভাবনার আভাস দিয়েছেন। মার্কিন সংবিধান অনুসারে একজন নেতা সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ পাবেন।

























