চুয়াডাঙ্গা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে ডিম ও মাছের দাম

Padma Sangbad
১৩৬

অনলাইন ডেস্ক।।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। পরিবহনব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাল, চিনি, ডিম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচাবাজারের পণ্যের দাম সাধারণত ফলন ও আমদানির ওপর নির্ভর করলেও জ্বালানিমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরবরাহব্যয় বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে প্রায় সব পণ্যে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, জিগাতলা কাঁচাবাজার, রায়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে চাল, চিনি, ডিম, মাছ ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতিকেজি পেঁয়াজ কেনা যেত, যা এখন ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ফার্মের ডিমের দাম বেড়ে ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। কিছু এলাকায় হালিপ্রতি ডিম ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটে গত এক মাস ধরেই ট্রাকভাড়া বেশি ছিল। নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনব্যয় আরও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের

দামে। দূরপাল্লার ট্রাকভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রিপ সংকটে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমেছে। করলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও বরবটির দাম কিছুটা কমেছে। যদিও চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ও ধুন্দলের মতো কিছু সবজির দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা হালিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের।

বাজার করতে আসা বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী অমৃত সরকার বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম এখনও বেশি। শুধু সবজি দিয়ে তো আর খাওয়া যায় না। সবজির সঙ্গে মাছ কিনতে গেলে তখনই বোঝা যায় আসল খরচ। গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম অনেক বেড়েছে। ডিমের হালিও ৫০ টাকা।

এদিকে মাছের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩০০ টাকা। দুই কেজির বেশি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ অন্যান্য মাছও কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

আপডেট : ০৪:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, বেড়েছে ডিম ও মাছের দাম

আপডেট : ০৪:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
১৩৬

অনলাইন ডেস্ক।।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। পরিবহনব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাল, চিনি, ডিম, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচাবাজারের পণ্যের দাম সাধারণত ফলন ও আমদানির ওপর নির্ভর করলেও জ্বালানিমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরবরাহব্যয় বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে প্রায় সব পণ্যে।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, জিগাতলা কাঁচাবাজার, রায়ের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে চাল, চিনি, ডিম, মাছ ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতিকেজি পেঁয়াজ কেনা যেত, যা এখন ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে ফার্মের ডিমের দাম বেড়ে ডজনপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় উঠেছে। কিছু এলাকায় হালিপ্রতি ডিম ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটে গত এক মাস ধরেই ট্রাকভাড়া বেশি ছিল। নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনব্যয় আরও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পণ্যের

দামে। দূরপাল্লার ট্রাকভাড়া বৃদ্ধি ও ট্রিপ সংকটে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমেছে। করলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও বরবটির দাম কিছুটা কমেছে। যদিও চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ও ধুন্দলের মতো কিছু সবজির দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা হালিপ্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের।

বাজার করতে আসা বেসরকারি ব্যাংকের চাকরিজীবী অমৃত সরকার বলেন, সবজির দাম কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম এখনও বেশি। শুধু সবজি দিয়ে তো আর খাওয়া যায় না। সবজির সঙ্গে মাছ কিনতে গেলে তখনই বোঝা যায় আসল খরচ। গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের দাম অনেক বেড়েছে। ডিমের হালিও ৫০ টাকা।

এদিকে মাছের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৩০০ টাকা। দুই কেজির বেশি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ অন্যান্য মাছও কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।