চুয়াডাঙ্গা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৩২ বস্তা টাকা

Padma Sangbad
৪৮

অনলাইন ডেস্ক।।
কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলা হলেও, এবার চার মাস ১৭ দিন পর এই আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো থেকে মোট ৩২ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার ও রুপার গয়না। বর্তমানে চলছে গণনার কাজ, যা করছে প্রায় ৫০০ জনের একটি দল।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবার রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা গণনার কাজ করছেন।

গত ১২ এপ্রিল, পাগলা মসজিদের ১১টি দানবাক্স থেকে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সঙ্গে ছিল বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। প্রায় ৪০০ জনের একটি দল এই টাকা গণনা করেছিল।

এরও আগে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর ২৯ বস্তা টাকার দানবাক্স খোলা হয় এবং গণনার পর ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া ১৭ আগস্টে ৯টি দানবাক্স ও একটি ট্যাঙ্ক খুলে ২৮ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল।

শনিবারের গণনায় জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী, জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১২০ ছাত্র, ব্যাংকের ১০০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য অংশ নেন।

স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এ মসজিদে দান করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। একসময় এখানে পাগল সাধকের আস্তানা ছিল, যেখান থেকে ধীরে ধীরে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে মানত ও দান আনেন।

প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিড় জমে। আগত মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করেন। মসজিদের ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরের। বর্তমানে শহরের পশ্চিমে নরসুন্দা নদীর তীরে ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গায় মসজিদ কমপ্লেক্সটি বিস্তৃত।

পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স হিসেবে স্বীকৃত। দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। করোনাকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা, যেখানে ৩০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

আপডেট : ০১:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৩২ বস্তা টাকা

আপডেট : ০১:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
৪৮

অনলাইন ডেস্ক।।
কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলা হলেও, এবার চার মাস ১৭ দিন পর এই আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো থেকে মোট ৩২ বস্তা নগদ টাকা পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনার ও রুপার গয়না। বর্তমানে চলছে গণনার কাজ, যা করছে প্রায় ৫০০ জনের একটি দল।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এবার রেকর্ড ৩২ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার ছাত্ররা গণনার কাজ করছেন।

গত ১২ এপ্রিল, পাগলা মসজিদের ১১টি দানবাক্স থেকে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সঙ্গে ছিল বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। প্রায় ৪০০ জনের একটি দল এই টাকা গণনা করেছিল।

এরও আগে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর ২৯ বস্তা টাকার দানবাক্স খোলা হয় এবং গণনার পর ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া ১৭ আগস্টে ৯টি দানবাক্স ও একটি ট্যাঙ্ক খুলে ২৮ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল।

শনিবারের গণনায় জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী, জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১২০ ছাত্র, ব্যাংকের ১০০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য অংশ নেন।

স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এ মসজিদে দান করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। একসময় এখানে পাগল সাধকের আস্তানা ছিল, যেখান থেকে ধীরে ধীরে পাগলা মসজিদ গড়ে ওঠে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে মানত ও দান আনেন।

প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিড় জমে। আগত মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করেন। মসজিদের ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরের। বর্তমানে শহরের পশ্চিমে নরসুন্দা নদীর তীরে ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গায় মসজিদ কমপ্লেক্সটি বিস্তৃত।

পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স হিসেবে স্বীকৃত। দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। করোনাকালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা, যেখানে ৩০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন।