চুয়াডাঙ্গা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ কর্মকর্তা নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তে পিবিআই

Padma Sangbad
৩৩

অনলাইন ডেস্ক।।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন এক নারী। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল রবিবার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার মোসা. সুরাইয়া বেগমমামলার আবেদন করেন। আজ সোমবার বাদীপক্ষের আইনজীবী হরে কৃষ্ণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমান বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি রয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২২ মে আসামিরা সহ আরও ৭/৮ জন শামীমের রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্যারেজে ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করেন। সেখানে থাকা নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা এসআই নেয়ামত উল্লাহ। নেয়ামত উল্লাহ পুলিশ সদস্য হওয়ায় মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। শামীম রেজা ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার এবং পরোয়ানা সংক্রান্ত হয়রানি থেকে রক্ষার কথা বলে নিয়ামত উল্লাহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। শামীমের পরিবার দুই দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়।

বাদীর অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগের মামলায় শামীমকে গত ১০ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নিয়ামত উল্লাহ। শামীমের স্ত্রীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নিয়ামত উল্লাহ। শামীমকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে পরিবারের কাছে দুটি আইফোন চান এ পুলিশ কর্মকর্তা। ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় তাকে ফোন কিনে দেয় শামীমের পরিবার। তবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স পছন্দ হয়নি নিয়ামত উল্লাহর। ১৪ জুন বসুন্ধরার মোবাইলের দোকান থেকে ফোন দুটি পরিবর্তন করে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ওয়ার টেরাবাইট নিজের নামে করে নেন নেয়ামত উল্লাহ।

সুরাইয়া বেগম তার ছেলের সাথে কারাগারে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারেন, নিয়ামত উল্লাহ তার ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কথা ফাঁস হলে নিয়ামত উল্লাহ তিনটি মোবাইল ফোন ফেরত দেন। তবে টাকা ও আংটি রেখে দেন। নিয়ামত উল্লাহ কৌশলে শামীমের অন্তরঙ্গ অঙ্গভঙ্গির ছবি তুলে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে ৭৩ হাজার টাকা নেন। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি শামীমের বাড়িতে গিয়ে আগের চাওয়া ৩৮ লাখ টাকা দাবি করে।

সম্প্রতি সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহকে ঘিরে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের শিরোনাম হন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আপডেট : ১২:০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

পুলিশ কর্মকর্তা নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তে পিবিআই

আপডেট : ১২:০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
৩৩

অনলাইন ডেস্ক।।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন এক নারী। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল রবিবার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার মোসা. সুরাইয়া বেগমমামলার আবেদন করেন। আজ সোমবার বাদীপক্ষের আইনজীবী হরে কৃষ্ণ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমান বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি রয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২২ মে আসামিরা সহ আরও ৭/৮ জন শামীমের রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গ্যারেজে ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করেন। সেখানে থাকা নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যান। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা এসআই নেয়ামত উল্লাহ। নেয়ামত উল্লাহ পুলিশ সদস্য হওয়ায় মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। শামীম রেজা ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলা, গ্রেপ্তার এবং পরোয়ানা সংক্রান্ত হয়রানি থেকে রক্ষার কথা বলে নিয়ামত উল্লাহ ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। শামীমের পরিবার দুই দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়।

বাদীর অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগের মামলায় শামীমকে গত ১০ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নিয়ামত উল্লাহ। শামীমের স্ত্রীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নিয়ামত উল্লাহ। শামীমকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার থেকে রক্ষা করতে পরিবারের কাছে দুটি আইফোন চান এ পুলিশ কর্মকর্তা। ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় তাকে ফোন কিনে দেয় শামীমের পরিবার। তবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স পছন্দ হয়নি নিয়ামত উল্লাহর। ১৪ জুন বসুন্ধরার মোবাইলের দোকান থেকে ফোন দুটি পরিবর্তন করে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ওয়ার টেরাবাইট নিজের নামে করে নেন নেয়ামত উল্লাহ।

সুরাইয়া বেগম তার ছেলের সাথে কারাগারে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারেন, নিয়ামত উল্লাহ তার ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ কথা ফাঁস হলে নিয়ামত উল্লাহ তিনটি মোবাইল ফোন ফেরত দেন। তবে টাকা ও আংটি রেখে দেন। নিয়ামত উল্লাহ কৌশলে শামীমের অন্তরঙ্গ অঙ্গভঙ্গির ছবি তুলে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে ৭৩ হাজার টাকা নেন। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি শামীমের বাড়িতে গিয়ে আগের চাওয়া ৩৮ লাখ টাকা দাবি করে।

সম্প্রতি সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহকে ঘিরে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের শিরোনাম হন এই পুলিশ কর্মকর্তা।