চুয়াডাঙ্গা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার প্রস্তুতি ইরানের

Padma Sangbad
৩৮

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগ দিলে চুপ থাকবে না তেহরান। সেকারণে এখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইরান।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকাকে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, ইরান প্রথমে ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এরপর অন্যান্য আরব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ফরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলের হামলা পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার কথা বিবেচনা করার মধ্যেই ইরানের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা প্রস্তুতির এই খবর এল।
এবার ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত চ্যানেল প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর সন্ত্রাসমূলক হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল যেসব বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে, প্রতিশোধ হিসেবে সেই ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ঘোষণা দিয়েছে, কয়েক স্তরের পরিকল্পনা অনুসারে ক্রমাগত চলতে থাকবে এই অভিযান।
অপরদিকে, ইরানের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনা, যেটি এখনও পর্যন্ত টিকে রয়েছে, সেটিকে লক্ষ্য করেই নতুন হামলার পরিকল্পনা চলছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী চান, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপণা ফর্দোয় বোমা ফেলুক যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, এই স্থাপনা ধ্বংস করতে যে বোমা দরকার তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আছে।
এ পরিস্থিতিতেই ইরানের আশঙ্কা, যে কোনও সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর হামলা চালাতে পারে। আর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পাল্টা জবাব দেবে ইরানও।
তেহরানের কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে দিতে পারে। এই প্রণালী বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে মাইন পেতে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে হঠাৎ করেই।
তাছাড়া, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও আবার লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজগুলোকে আটলান্টিক পেরিয়ে যেতে দেখা গেছে, যা ওয়াশিংটনের তরফে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওদিকে, দ্য টেলিগ্রাফকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এখন এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়ানোর ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
ইরানের হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সেনাবাহিনী এই ধরনের হামলার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুত। কারণ তেহরানের হাতে রয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার বহু ক্ষেপণাস্ত্রÍ যেগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে সহজেই আঘাত হানা সম্ভব।
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব ঘাঁটিতে অতিরিক্ত ৪০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানান। তার জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য জড়িয়ে পড়া নিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাঈ হামানে। বুধবার দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি কয়েকটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যা পুরো অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসমাইল বাঘাঈ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনও তৃতীয় পক্ষ যদি সরাসরি ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি একটি পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইরান বর্তমানে কেবল ইসরায়েলের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করেই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে দেবে না।” এর মাধ্যমে ইরান তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইরানি মুখপাত্র বলেন, “কূটনীতি কখনোই শেষ হয় না।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, “তেহরান এখন আর ওয়াশিংটনের ওপর কোনো ভরসা করে না।” এতে বোঝা যায়, অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ইরান এখন রাশিয়াসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছে বলে জানান বাঘাঈ। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়।” সূত্র: আল জাজিরা।

আপডেট : ০১:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার প্রস্তুতি ইরানের

আপডেট : ০১:০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
৩৮

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগ দিলে চুপ থাকবে না তেহরান। সেকারণে এখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইরান।
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকাকে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, ইরান প্রথমে ইরাকে থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। এরপর অন্যান্য আরব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ফরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলের হামলা পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার কথা বিবেচনা করার মধ্যেই ইরানের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা প্রস্তুতির এই খবর এল।
এবার ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্র পরিচালিত চ্যানেল প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর সন্ত্রাসমূলক হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল যেসব বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে, প্রতিশোধ হিসেবে সেই ঘাঁটিগুলোয় হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ঘোষণা দিয়েছে, কয়েক স্তরের পরিকল্পনা অনুসারে ক্রমাগত চলতে থাকবে এই অভিযান।
অপরদিকে, ইরানের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনা, যেটি এখনও পর্যন্ত টিকে রয়েছে, সেটিকে লক্ষ্য করেই নতুন হামলার পরিকল্পনা চলছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী চান, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপণা ফর্দোয় বোমা ফেলুক যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, এই স্থাপনা ধ্বংস করতে যে বোমা দরকার তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আছে।
এ পরিস্থিতিতেই ইরানের আশঙ্কা, যে কোনও সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর হামলা চালাতে পারে। আর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পাল্টা জবাব দেবে ইরানও।
তেহরানের কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে দিতে পারে। এই প্রণালী বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে মাইন পেতে দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে হঠাৎ করেই।
তাছাড়া, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও আবার লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজগুলোকে আটলান্টিক পেরিয়ে যেতে দেখা গেছে, যা ওয়াশিংটনের তরফে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ওদিকে, দ্য টেলিগ্রাফকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প এখন এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়ানোর ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
ইরানের হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সেনাবাহিনী এই ধরনের হামলার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুত। কারণ তেহরানের হাতে রয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘপাল্লার বহু ক্ষেপণাস্ত্রÍ যেগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে সহজেই আঘাত হানা সম্ভব।
ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব ঘাঁটিতে অতিরিক্ত ৪০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার আহ্বান জানান। তার জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য জড়িয়ে পড়া নিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাঈ হামানে। বুধবার দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি কয়েকটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যা পুরো অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসমাইল বাঘাঈ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “কোনও তৃতীয় পক্ষ যদি সরাসরি ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি একটি পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নেবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইরান বর্তমানে কেবল ইসরায়েলের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করেই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে দেবে না।” এর মাধ্যমে ইরান তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইরানি মুখপাত্র বলেন, “কূটনীতি কখনোই শেষ হয় না।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, “তেহরান এখন আর ওয়াশিংটনের ওপর কোনো ভরসা করে না।” এতে বোঝা যায়, অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ইরান এখন রাশিয়াসহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছে বলে জানান বাঘাঈ। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়।” সূত্র: আল জাজিরা।