রাশিয়ায় কারখানার আগুনে এক বাংলাদেশি নিহত, আরেকজন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সের (এজিসিসি) আগুনে নিহত ১৫ জনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি নিখোঁজ ও আর সাত বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন মস্কোস্থ বাংলাদেশি দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবারের আগুনের এ ঘটনায় নিহত জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে। নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি কর্মী মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে।
মিজানুর রহমান বলেন, কিছু মরদেহ বেশি পুড়ে যাওয়ায় এখনও সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সেগুলোর মধ্যে রাজুর মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাতজন গুরুতর আহত বাংলাদেশি কর্মীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে মস্কোতে অবস্থিত স্পেশালাইজড হাস্পাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে যাদের মধ্যে ৬ জন আইসিইউতে রয়েছেন।
তিনি বলেন, জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাস থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। উক্ত কোম্পানি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে মরদেহ পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং পরে তার বকেয়া পাওনা এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়ে দূতাবাস এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। দূতাবাস ইতোমধ্যে মরদেহ পাঠানোর জন্য প্রত্যয়ণপত্র এবং আনুষঙ্গিক কাগজপত্র প্রস্তুত করছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) আগুন লাগে। গতকাল বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের নিহতের খবর দেয় এজিসিসি। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তথ্য দিয়েছে তারা। সেখানে বলা হয়, নিহতদের ১৪ জনই বিদেশি।
দ্য মস্কো টাইমসের বুধবারের খবরে বলা হয়, এজিসিসি রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে নির্মিতব্য। প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। আগামী বছরের শুরুতে চালুর আগে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।
এজিসিসি বলছে, পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত; পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।


























