চুয়াডাঙ্গা ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংখ্যালঘুর জমিসহ বাড়ি-ঘর দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

Padma Sangbad
৮৪

যশোরের অভয়নগরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমিসহ বাড়ি-ঘর দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। দখল কার্যক্রমে বাধা দিলে করা হয় পাশবিক নির্যাতন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিমল কান্তি এমন অভিযোগ করেন।
অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রফেসর পাড়ার পরিমল কান্তি কর্মকার লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘বিএনপি নেতা এফএম আলাউদ্দিন আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ও তার পরিবার ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমাদের পরিবারের উপর নানাভাবে শারীরিক লাঞ্ছনা, হেয় প্রতিপন্ন করা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে আসছিলেন। তাদের অত্যাচারে আমাদের সেখানে বসবাস করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিএনপি নেতা এফএম আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে এফএম রাব্বি ও তার গুন্ডাবাহিনী আমাদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে’।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতা এফএম আলাউদ্দিনের দুই ছেলে এফএম রাজু আহমেদ, এফএম রাব্বি এলাকায় ক্যাডার ভিত্তিক সন্ত্রাস ও ত্রাস কায়েম করেছে। বর্তমানে তারা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা ও মূর্তিমান আতঙ্ক। এই হামলার পরিপেক্ষিতে আমার ২০১৭ সালে মা বিউটি কর্মকার বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। এরপর থেকে নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে বসতভিটা ছাড়া হয়ে গত ৭ বছর যশোর শহরে ভাড়া বাসায় স্বপরিবারে বসবাস করছি’।
পরিমল কান্তি কর্মকার বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জানতে পারেন এফএম আলাউদ্দিনের দুই ছেলে, তার পিতা বিএনপি নেতা এফ এম আলাউদ্দিন ও তার চাচা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এফএম গিয়াস উদ্দিন ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমাদের বসতবাড়িটি দখল করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে’।
বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িতে গেলে আলাউদ্দিনের দুই ছেলে এফএম রাজু আহমেদ ও এফএম রাব্বিসহ তাদের ক্যাডাররা তাকে ইটের আঘাতে জখম করেন। পরে একটি ঘরে আটকে নির্যাতন করেন। তখন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিও করা হয়। সেদিন তিনি পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে হুমকি ধামকির কারণে মামলা করতে সাহস পাছেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিমল কান্তির স্ত্রী বিউটি কর্মকার ও ছেলে পিয়াস কর্মকার।

আপডেট : ০১:৩৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সংখ্যালঘুর জমিসহ বাড়ি-ঘর দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট : ০১:৩৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
৮৪

যশোরের অভয়নগরে এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমিসহ বাড়ি-ঘর দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। দখল কার্যক্রমে বাধা দিলে করা হয় পাশবিক নির্যাতন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিমল কান্তি এমন অভিযোগ করেন।
অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রফেসর পাড়ার পরিমল কান্তি কর্মকার লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘বিএনপি নেতা এফএম আলাউদ্দিন আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তিনি ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ও তার পরিবার ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমাদের পরিবারের উপর নানাভাবে শারীরিক লাঞ্ছনা, হেয় প্রতিপন্ন করা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে আসছিলেন। তাদের অত্যাচারে আমাদের সেখানে বসবাস করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সালে বিএনপি নেতা এফএম আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে এফএম রাব্বি ও তার গুন্ডাবাহিনী আমাদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে’।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতা এফএম আলাউদ্দিনের দুই ছেলে এফএম রাজু আহমেদ, এফএম রাব্বি এলাকায় ক্যাডার ভিত্তিক সন্ত্রাস ও ত্রাস কায়েম করেছে। বর্তমানে তারা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা ও মূর্তিমান আতঙ্ক। এই হামলার পরিপেক্ষিতে আমার ২০১৭ সালে মা বিউটি কর্মকার বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। এরপর থেকে নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে বসতভিটা ছাড়া হয়ে গত ৭ বছর যশোর শহরে ভাড়া বাসায় স্বপরিবারে বসবাস করছি’।
পরিমল কান্তি কর্মকার বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জানতে পারেন এফএম আলাউদ্দিনের দুই ছেলে, তার পিতা বিএনপি নেতা এফ এম আলাউদ্দিন ও তার চাচা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এফএম গিয়াস উদ্দিন ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমাদের বসতবাড়িটি দখল করে তালা লাগিয়ে দিয়েছে’।
বিষয়টি জানতে পেরে বাড়িতে গেলে আলাউদ্দিনের দুই ছেলে এফএম রাজু আহমেদ ও এফএম রাব্বিসহ তাদের ক্যাডাররা তাকে ইটের আঘাতে জখম করেন। পরে একটি ঘরে আটকে নির্যাতন করেন। তখন ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিও করা হয়। সেদিন তিনি পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে হুমকি ধামকির কারণে মামলা করতে সাহস পাছেন না বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিমল কান্তির স্ত্রী বিউটি কর্মকার ও ছেলে পিয়াস কর্মকার।