চুয়াডাঙ্গা ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝড়ের পর ফের দাপট দেখাচ্ছে তাপপ্রবাহ, জনজীবনে চরম ভোগান্তি।

Padma Sangbad

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"remove_bg":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

৬০

দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

দুই দিনের ঝড়বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দেশে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা, ফলে দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। গরমজনিত অসুস্থতা, বিশেষ করে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
তীব্র গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুপেয় পানির সংকট ও ঘনঘন লোডশেডিং, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলেও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। ২০ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যেতে পারে এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে ৪–৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি লাগতে পারে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু পূর্বাভাসে ‘চরম তাপপ্রবাহ’ পরিস্থিতির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুর, রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে গেছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ফলে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, এ সময়ে হিটস্ট্রোক, মাথা ঘোরা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও ত্বকের সমস্যার প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে বয়স্কদের হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি।
গত বছর দীর্ঘ ৩৬ দিনের তাপপ্রবাহে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। একদিনেই ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। চলতি বছরও ইতোমধ্যে তাপপ্রবাহে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে, কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ঢাকাতেও বিদ্যুতের আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে, যা গরমের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় কখনো তীব্র গরম, আবার হঠাৎ বজ্রঝড়ের প্রবণতা বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আপডেট : ১০:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ঝড়ের পর ফের দাপট দেখাচ্ছে তাপপ্রবাহ, জনজীবনে চরম ভোগান্তি।

আপডেট : ১০:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৬০

দৈনিক পদ্মা সংবাদ।

দুই দিনের ঝড়বৃষ্টিতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দেশে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা, ফলে দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। গরমজনিত অসুস্থতা, বিশেষ করে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।
তীব্র গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুপেয় পানির সংকট ও ঘনঘন লোডশেডিং, যা জনদুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলেও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। ২০ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২১ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যেতে পারে এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে ৪–৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি লাগতে পারে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু পূর্বাভাসে ‘চরম তাপপ্রবাহ’ পরিস্থিতির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা দিনমজুর, রিকশাচালক ও নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা কমে গেছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ফলে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, এ সময়ে হিটস্ট্রোক, মাথা ঘোরা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও ত্বকের সমস্যার প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে বয়স্কদের হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি।
গত বছর দীর্ঘ ৩৬ দিনের তাপপ্রবাহে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। একদিনেই ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। চলতি বছরও ইতোমধ্যে তাপপ্রবাহে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে, কোথাও কোথাও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ঢাকাতেও বিদ্যুতের আসা-যাওয়া শুরু হয়েছে, যা গরমের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় কখনো তীব্র গরম, আবার হঠাৎ বজ্রঝড়ের প্রবণতা বাড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা খাবার গ্রহণ এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।