মোসাদ্দেক-নাহিদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়

স্পোর্টস ডেস্ক।।
মোসাদ্দেক হোসেনের অলরাউন্ড নৈপুণ্য ও নাহিদ রানার তাণ্ডবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ডার্কওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৮৬ রানে এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ওয়ানডে জেতার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। এর আগে দেশের বাইরে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অজিদের বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে জিতেছিল টাইগাররা।
আজ মঙ্গলবার মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলতে নামে দুদল। বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় ম্যাচটি শুরু হয়। যেখানে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া।
প্রথমে ব্যাট করা টাইগাররা মোসাদ্দেক হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান করেছে। জবাবে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে ১৯১ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস।
এদিন বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ১০ রানে ও ব্যক্তিগত ৫ রানে ফেরেন সাইফ হাসান। নাথান এলিসের বলে আউট হন তিনি।
তবে এরপর হাল ধরেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ জুটি ৯১ বলে ৯৬ রান তোলেন। যেখান তানজিদ ৪৪ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৪ করে এলিসের শিকার হন ও শান্ত ৮৬ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৬৭ করে ম্যাট রেনশর বলে মাঠ ছাড়েন। মাঝে রেনশর বলেই দ্রুত ফিরে যান লিটন দাস (৭)।
এরপর ম্যাচের হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাওহীদ হৃদয়। তারা ৯০ বলে ৭৫ রান করেন। হৃদয় অবশেষে ৫১ বলে ৩১ রান করে আউট হন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভীর ইসলাম বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
তবে প্রায় ৪ বছর পর ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন নতুন করে নিজের অস্তিত্বের জানান দেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে এই ব্যাটার ৭০ বলে ৮৬ রানে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া তাসকিন আহমেদ শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন।
অজি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পান নাথান এলিস। আর ২টি করে উইকেট লাভ করেন লিয়াম স্কট ও ম্যাট রেনশ।
জবাব দিতে নামা অস্ট্রেলিয়া ইনিংসে প্রথম বলেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তিনি ম্যাথিউ শর্টকে বোল্ড করেন। পরের ওভারেই মার্নাস লাবুশানেকে এলবির ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এরপর নাহিদে দাপটে সেভাবে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটারই টিকতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৭ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে লিটন দাসের ক্যাচে ফেরান এই ডানহাতি। তিনি অধিনায়ক জশ ইংলিস (১৯), লিয়াম স্কট ও জাভিয়ার বার্টলেটকেও আউট করেন।
অসাধারণ ব্যাট করা মোসাদ্দেক বল হাতেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখান। অফস্পিন ঘূর্ণিতে তিনি কুপার কনলি (৩৫) ও ম্যাট রেনশকে মাঠ ছাড়া করান।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিন ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন ৪২.২ ওভারে। এরপরই বৃষ্টি হানা দেয়। ম্যাচ রেফারি পরে বাংলাদেশের জয় ঘোষণা করেন।

























