ইরান যুদ্ধ নিয়ে চাপে ট্রাম্প, সামনে কঠিন তিন পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বড় ধরনের কৌশলগত সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনির্ধারিত বিমান হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে পারস্পরিক অবরোধের পরও তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পারেনি ওয়াশিংটন। ফলে ইরান সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মূলত তিনটি কঠিন বিকল্প রয়েছে। প্রথমটি হলো চলমান বিমান হামলা, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও সামুদ্রিক অবরোধের মতো কৌশল দীর্ঘায়িত করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে ইরানের বেসামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা কিংবা সীমিত আকারে স্থলসেনা মোতায়েনের মাধ্যমে সংঘাত আরও তীব্র করা। তৃতীয় পথ হলো ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছাড়াই সংঘাত থেকে সরে আসা।
তবে তৃতীয় বিকল্পটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ‘কখনো শেষ না হওয়া যুদ্ধের’ সমালোচনা করে আসছেন। অথচ ইরান ইস্যুতে তিনি এখন এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়।
সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানের মনোভাবকে প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে চরম পরিণতি বা ‘শিরñেদের’ হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু বিমান হামলা চালিয়ে কিংবা হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা যাচ্ছে না। এদিকে, মার্কিন হামলা জোরদার হলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বিশেষ করে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে সেনাসদস্য হতাহতের ঘটনা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
পেন্টাগনও এখন নতুন সামরিক পরিকল্পনার সন্ধান করছে, তবে ইতিহাস বলছে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সব সময় সম্ভব নয়। এই ইরান সংঘাত বুশ বা অন্য কোনো পূর্বসূরির নয়, এটি ট্রাম্পের নিজস্ব তৈরি একটি সংকট। এখন তিনি এই সংকট কীভাবে সামাল দেন বা যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে নেন, তা-ই মার্কিন রাজনীতিতে তার ঐতিহাসিক অবদান ও উত্তরাধিকার নির্ধারণ করবে।
ইরান সংকটের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের একক প্রভাবও কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অর্থনীতি, আদালত এবং নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও তার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাধা আসছে।
বিশ্ববাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার প্রশাসনের নীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্তই জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ানোর অন্যতম কারণ।
কংগ্রেসেও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভোটার আইডি সংক্রান্ত বিধান কঠোর করার লক্ষ্যে ট্রাম্প সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ স্বদলীয় কিছু সিনেটরের বিরোধিতার কারণে আটকে আছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ইরান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চাপ। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার এবং জ্বালানি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাসের বিপরীতে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বিঘ্ন বিশ্ববাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পারদ নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে ইরান যুদ্ধ শুধু তার পররাষ্ট্রনীতির জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার উত্তরাধিকারের জন্যও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























