চুয়াডাঙ্গা ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের পর সন্ধ্যায় বজ্রপাতের সাথে ঝড়ো বৃষ্টি জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস

Padma Sangbad
২১

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।
চুয়াডাঙ্গায় তীব্র দাবদাহে পর সন্ধ্যায় অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মিলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে ধেয়ে আসা তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, ভারী বর্ষণ ও একের পর এক বজ্রপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বজ্রপাতের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পর্যন্ত জেলা জুড়ে ছিল তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া। সন্ধ্যা ছয়টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে দিনভর চুয়াডাঙ্গাবাসী তীব্র ও ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন। দিনভর অসহ্য গরমের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। শুরু হয় ধূলিঝড়, যা দ্রুতই রূপ নেয় তীব্র কালবৈশাখীতে। ঝড়ের সাথে সাথে শুরু হয় বৃষ্টি এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় মোট ৪৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ খরা ও তীব্র গরমের পর এই ভারী বর্ষণ চুয়াডাঙ্গার প্রকৃতিতে কিছুটা শীতলতা এনে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে, কোথাও কোথাও কাঁচা ঘরবাড়ির টিন উড়ে গেছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সাথে চুয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে একটি গাছ সড়কের উপরে পড়ে প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসে বজ্রপাতের কারণে। জেলা জুড়ে মুহুর্মুহু বজ্রপাতে চুয়াডাঙ্গায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বজ্রাঘাতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বজ্রপাতে আহত আরও কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা নাঈম হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্থায়ী ছিল এই ঝড় বৃষ্টি। বিকট শব্দে বজ্রপাত হচ্ছিল এবং আমরা খুবই ভীত ছিলাম। প্রতি মিনিটে মিনিটে বজ্রপাত হচ্ছিল। এমন ঝড় বৃষ্টিতে সব থেকে ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বজ্রপাত। বজ্রপাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে আমরা সকলেই ঘরের ভেতর অবস্থান করছিলাম।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, এই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পাবে। আগামী ৯ জুন পর্যন্ত তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে, যা চুয়াডাঙ্গাবাসীকে তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দেবে।

আপডেট : ০১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় তীব্র গরমের পর সন্ধ্যায় বজ্রপাতের সাথে ঝড়ো বৃষ্টি জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস

আপডেট : ০১:২৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
২১

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা।।
চুয়াডাঙ্গায় তীব্র দাবদাহে পর সন্ধ্যায় অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মিলেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে ধেয়ে আসা তীব্র কালবৈশাখী ঝড়, ভারী বর্ষণ ও একের পর এক বজ্রপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বজ্রপাতের ঘটনায় চুয়াডাঙ্গায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পর্যন্ত জেলা জুড়ে ছিল তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া। সন্ধ্যা ছয়টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে দিনভর চুয়াডাঙ্গাবাসী তীব্র ও ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন। দিনভর অসহ্য গরমের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে চুয়াডাঙ্গার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। শুরু হয় ধূলিঝড়, যা দ্রুতই রূপ নেয় তীব্র কালবৈশাখীতে। ঝড়ের সাথে সাথে শুরু হয় বৃষ্টি এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় মোট ৪৪.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ খরা ও তীব্র গরমের পর এই ভারী বর্ষণ চুয়াডাঙ্গার প্রকৃতিতে কিছুটা শীতলতা এনে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়েছে, কোথাও কোথাও কাঁচা ঘরবাড়ির টিন উড়ে গেছে। হঠাৎ এই দুর্যোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই সাথে চুয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সামনে একটি গাছ সড়কের উপরে পড়ে প্রায় এক ঘন্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসে বজ্রপাতের কারণে। জেলা জুড়ে মুহুর্মুহু বজ্রপাতে চুয়াডাঙ্গায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বজ্রাঘাতে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার এক যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বজ্রপাতে আহত আরও কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা নাঈম হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্থায়ী ছিল এই ঝড় বৃষ্টি। বিকট শব্দে বজ্রপাত হচ্ছিল এবং আমরা খুবই ভীত ছিলাম। প্রতি মিনিটে মিনিটে বজ্রপাত হচ্ছিল। এমন ঝড় বৃষ্টিতে সব থেকে ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বজ্রপাত। বজ্রপাত থেকে সুরক্ষিত থাকতে আমরা সকলেই ঘরের ভেতর অবস্থান করছিলাম।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, এই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা হ্রাস পাবে। আগামী ৯ জুন পর্যন্ত তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে, যা চুয়াডাঙ্গাবাসীকে তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দেবে।